Breaking







Wednesday, 26 May 2021

ভারতীয় ব্যাঙ্ক ব্যবস্থার গঠন উপর বিস্তারিত আলোচনা পর্ব-২।Detailed discussion on the structure of Indian banking system Part-2.

প্রিয় বন্ধুরা

    ভারতীয় অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উপরে ব্যাংকের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের ব্যাংকিং ব্যবস্থা এই চ্যাপ্টার এর উপরে আমরা প্রতিযোগিতা পরীক্ষামূলক সমস্ত এক্সাম এ প্রশ্ন আসতে দেখে থাকি। তাই এই চ্যাপ্টার উপরে সম্পূর্ণ ডিটেইলস বিবরণ আপনাদের কাছে তুলে ধরলাম যেখান থেকে আপনাদের আগত এক্সামে কোন অসুবিধা না হয়।


✓ভারতীয় ব্যাংক ব্যবস্থার গঠন:

ব্যাঙ্ক দুধরনের হয়— তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত ব্যাঙ্ক। তালিকাভুক্ত ব্যাঙ্ক আবার দু-প্রকার—তালিকাভুক্ত বানিজ্যিক ও তালিকাভুক্ত সমবায়ী ব্যাঙ্ক।

(A) তালিকাভুক্ত বানিজ্যিক ব্যাঙ্ক ঃ এই ব্যাঙ্কগুলি RBI আইন 1934-র দ্বিতীয় তালিকায় রয়েছে। এই তালিকায় না থাকা ব্যাঙ্কগুলাে অতালিকাভুক্ত বা non-scheduled ব্যাঙ্ক। তালিকাভুক্ত ব্যাঙ্কগুলাে সাধারণত বেসরকারী বিদেশী জাতীয় ব্যাঙ্ক হয় যেগুলি দেশের অভ্যন্তরে কাজ করছে। এরা RBI থেকে ব্যাঙ্ক রেটে ঋণ পায়। সমবায়ী ব্যাঙ্কগুলাে প্রয়ােজনীয় মাপকাঠি পূরণ করলে এই পর্যায়ে উন্নীত হতে পারবে।

* এই ব্যাঙ্কগুলির মূলধন বা সঞ্চয় ন্যূনতম 25 লাখ টাকা হতে হবে।

* এদের কাজের বিস্তারিত তথ্য RBI-এর কাছে প্রতি সপ্তাহে জমা দিতে হবে।

* এরা পাঁচ শ্রেণীতে বিভক্ত যথা – জাতীয় ব্যাঙ্ক, SBI ও তার সহযােগী ব্যাঙ্ক, বেসরকারী ব্যাঙ্ক, বিদেশী ব্যাঙ্ক ও আঞ্চলিক গ্রামীন ব্যাঙ্ক।বর্তমানে ভারতের প্রতিটি বানিজ্যিক ব্যাঙ্ক-ই এই তালিকাভুক্ত।

* 1917-এর মধ্যে ব্যাঙ্ক ব্যবস্থার জটিল সমস্যা ও 1949এর শেষদিকে দেশের 58৪টি ব্যাঙ্কের শশাচনীয় ব্যর্থতার পর ব্যাংকগুলির নিয়ন্ত্রনে প্রয়ােজনীয়তা দেখা দেয়।

* ব্যাঙ্ক কোম্পানীর আইন 1949 (Banking companies act) যেটি পরে ব্যাঙ্ক নিয়ন্ত্রণ আইন 1949 (Banking regulation act) নামে পরিচিত হয়, তার দ্বারা ব্যাঙ্কগুলির আইনী নিয়ন্ত্রণ বিধিবদ্ধ হয়।

* 1969-এ উপরােক্ত আইনে কিছু পরিবর্তন এনে 14 টি ব্যাঙ্কের জাতীয়করণ করা হয়।

* উপরােক্ত আইনে পরিবর্তনের মাধ্যমে শুধু ভারী শিল্প নয়, অন্যান্য মুখ্য ক্ষেত্রগুলি যেমন—কৃষি, ক্ষুদ্র শিল্প ও রপ্তানীর ওপর বিনিয়ােগে গুরুত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

* 1980-তে যে সব ব্যাঙ্কের মােট সঞ্চয় ন্যূনতম 200 কোটি টাকা, তাদর জাতীয়করণ করা হয়। এই বছর 6টি ব্যাঙ্কের জাতীয়করণ করা হয়।

* 1993-এ New Bank of India ও Punjab National Bank যুক্ত হয়ে যায় ও জাতীয় ব্যাঙ্কের সংখ্যা 20 থেকে কমে 19 হয়।

* SBI ঃ আগে এটি পরিচিত ছিল ‘ইম্পিরিয়াল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া’ নামে। তিনটি ব্যাঙ্ক যুক্ত হয়ে এটি গঠিত হয়েছে— ক্যালকাটা, বম্বে ও মাদ্রাজ ব্যাঙ্ক। এটির জাতীয়করণ হয় 1955-তে।

এর সহযােগী ব্যাঙ্কগুলাে হল— বিকানির ও জয়পুর স্টেট H বাংক, হায়দ্রাবাদ স্টেট ব্যাঙ্ক, মাইসাের স্টেট ব্যাঙ্ক, পাটিয়ালা স্টেট ব্যাঙ্ক ও ইন্দোর স্টেট ব্যাঙ্ক।

সৌরাষ্ট্র ও ইন্দোর এই দুটি ব্যাঙ্ক যথাক্রমে 2008 ও 2010এ SBI -এর সাথে যুক্ত হয়েছে৷

✓ বেসরকারী ব্যাঙ্ক ঃ এটি দুপ্রকার।

(i) পুরননা বেসরকারী ব্যাঙ্ক, যেগুলির 1969 ও 1980 -তে জাতীয়করণ করা হয় এগুলির ক্ষুদ্র পরিসর ও স্বল্প কর্মসূচীর জন্য। এই ব্যাঙ্কগুলি ছিল—কারুর, বৈশ্য ব্যাঙ্ক, রত্নাকর ব্যাঙ্ক, লক্ষ্মী বিলাস ব্যাঙ্ক, সিটি ব্যাঙ্ক, রত্নাকর ব্যাঙ্ক, সিটি ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক, জম্মু ও কাশ্মীর ব্যাঙ্ক, নৈনিতাল ব্যাঙ্ক, কর্নাটক ব্যাঙ্ক ইত্যাদি।

(ii) নতুন বেসরকারী ব্যাঙ্ক, যেগুলি 1991-এর অর্থনৈতিক উদারীকরণ নীতি গ্রহণের পর স্থাপিত হয়েছে। ব্যাঙ্ককিং রেগুলেশন আইন 1949 সংশােধিত হয় 1993-এ এবং তারপর থেকে এদেশে বেসরকারী ব্যাঙ্কের দরজা খুলে দেওয়া হয।

* বিদেশী ব্যাঙ্ক ঃ যেসব বিদেশী ব্যাঙ্ক এদেশে শাখা বিস্তার করতে চায়, তাদের RBI-এর কাছ চিঠি দিয়ে তাদের সঞ্চয়। ও কর্মসূচী সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানাতে হবে। বেশীর ভাগ বিদেশী ব্যাঙ্ক বানিজ্য, বহিরাগত বানিজ্যিক ঋণগ্রহণ (external commercial borrowing), fafalestist ইত্যাদি কাজে যুক্ত থাকে।

* আঞ্চলিক গ্রামীন ব্যাঙ্ক (Regional Rural Bank) ঃ 1975-এ অর্ডিন্যান্স ও 1976-এর RBI আইন দ্বারা এটি স্থাপিত হয়। কৃষি ও অন্যান্য গ্রামীন ক্ষেত্রে যথেষ্ট অর্থ বিনিয়ােগের উদ্দেশ্যে এটি স্থাপিত হয়। এম. নরসিংহম কমিটির সুপারিশে এটি স্থাপিত হয়।

প্রতিটি RBI কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার ও উদ্যোক্তা ব্যাঙ্ক (Sponsor bank) কর্তৃক 50 15 35 অনুপাতে মালিকানাভুক্ত থাকে। RBI গ্রামীন স্তরে কাজ করে। এরা টাকা সঞ্চিত রাখে ও ক্ষুদ্র শিল্প, কৃষক, কৃষি শ্রমিক, গ্রামীণ কারিগর ও অন্যান্য গ্রামীন মুখ্য ক্ষেত্রগুলিকে ঋণ প্রদান করে।

RRB-এর অর্থের উৎস জনগণের সঞ্চয় এবং RRB কর্তৃক গৃহীত ঋণ যানাবার্ড, উদ্যোক্তা ব্যাঙ্ক, জাতীয় গৃহব্যাঙ্ক (National Housing Bank) ইত্যাদি সরবরাহ করে থাকে।

RRB কে নিয়ন্ত্রণ করে জাতীয় কৃষি ও গ্রামীণ বিকাশ ব্যাঙ্ক বা NABARD।

(B) তালিকাভুক্ত সমবায় ব্যাঙ্ক ঃ এই ব্যাঙ্ক উৎপাদন, উৎপন্নের বাজারীকরণ বা মার্কেটিং, বন্টন, পরিষেবা প্রদান ও ব্যাঙ্কিং-এর কাজ করে থাকে। গ্রামীণ স্তরে বিকাশমূলক কর্মসূচী গ্রহণের লক্ষ্যে কাজ করে এটি। সমবায় ব্যাঙ্ক দেশের প্রথম সরকারি উদ্যোগে ও সরকারি সাহায্যে প্রতিষ্ঠিত আর্থিক সংস্থা। 

✓ ভারতের ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কসমূহ:

* নাবার্ড (NABARD) :

NABARD (National Bank for Agriculture and Rural Development) হল ভারতবর্ষের শীর্ষ ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কগুলির মধ্যে অন্যতম। ইহার প্রধান কার্যালয় মুম্বাই হলেও সারা

ভারতবর্ষে এর শাখা বর্তমান। ভারতবর্ষের গ্রামাঞ্চলে কৃষিকাজ ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কাজের জন্য আমানত প্রদানকারী, পরিকল্পনা ও নীতি প্রভৃতি বিষয়গুলির উপর দায়িত্বপ্রাপ্ত একটি ব্যাঙ্ক। 1981 সালের ন্যাশানাল ব্যাঙ্ক ফর এগরিকালচার অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাক্ট-এর আওতায় 1982 সালের 12ই জুলাই বি. শিবরামণ কমিটির সুপারিশে নাবার্ড গঠন করা হয়েছিল। ইহা কৃষি ঋণ দপ্তর (ACD), RBI-এর গ্রাম্য পরিকল্পনা ও ঋণ দপ্তর 47 ARDC (Agricultural Refinance and Development Corporation) প্রভৃতি দপ্তরকে প্রতিস্থাপিত করে। নাবার্ডের প্রাথমিক মূলধন ছিল 100 কোটি টাকা। ভারত সরকার এবং RBI-এর মধ্যে শেয়ার মূলধন গঠনের পুনর্বিবেচনার দ্বারা, 2017 সালের 31শে মে এর পরিশােধিত মূলধন 30,000 কোটি টাকায় দাঁড়ায়, যার মধ্যে ভারত সরকারের 100 শতাংশ শেয়ার আছে।

• NABARD তার কর্তব্য সম্পাদনে নিম্নলিখিত ভূমিকা পালন করে ?

1. গ্রামাঞ্চলে বিনিয়োেগকারী সংস্থা এবং বিভিন্ন উন্নয়নশীল ক্রিয়াকলাপের জন্য উৎপাদন ঋণ প্রভৃতির জন্য এক শীর্ষ আর্থিক সংস্থা হিসাবে কাজ করে।

2. ইহা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে ক্রেডিটবিতরণ সিস্টেমের শােষণ ক্ষমতা পরিমাপ করে। এছাড়াও ইহার অন্তর্গত পুনর্বাসন প্রকল্পগুলির পর্যবেক্ষণ এবং প্রণয়ন, ঋণ প্রদানকারী সংস্থাগুলির পুনর্গঠন, কর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রভৃতি।

3. ফিল্ড লেভেলে উন্নয়নমূলক কাজের ক্ষেত্রে নিযুক্ত সকল গ্রামীণ প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নের কার্যক্রম পরিচালনা করে।

4. ইহা প্রকল্পগুলির নিরীক্ষণ ও মূল্যায়ণ করে এবং তাদের পুনরায় অর্থ প্রদান করে।

5. NABARD সেই সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে পুনরায় অর্থ ঋণ দেয়, যারা গ্রামাঞ্চলের উন্নয়নে ঋণ দেয়।

6. গ্রামীণ অর্থনীতিতে সাহায্যকারী সংস্থাগুলির উন্নতিতে NABARD অংশগ্রহণ করে।

7. RRB (Regional Rural Banks) এবং কো-অপারিটেভ ব্যাঙ্কগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং IBPS CWE-এর মাধ্যমে প্রতিভাবানদের অধিগ্রহণ করে।

NABARD যে সকল সংস্থাগুলিকে পুনঃঅর্থনৈতিক সংস্থান দেয় তারা হল —SCARDB (State Co operative Agricultural and Rural Development Bank), SCB (State Co-operative Banks), RRB (Regional Rural Banks), CB (Commercial Banks) এবং RBI-এর দ্বারা অনুমােদিত অন্যান্য অর্থনৈতিক সংস্থা।


সিডবি (SIDBI) ঃ

SIDBI (Small Industries Development Bank of India) 1990 সালের একটি স্বাধীন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যার উদ্দেশ্য হল ভারতবর্যে MSME (Micro, Small and Medium Scale Enterprises)-এর বিকাশ এবং উন্নতিতে সাহায্য করা। প্রথমে ইহা পুরােপুরি IDBI (Industrial Development Bank of India)-95 ভর্তুকির অন্তর্ভুক্ত ছিল। বর্তমানে ইহা 34টি ভারত সরকারের অধিনে ও নিয়ন্ত্রিত সংস্থার মালিকানাধিন। ব্যাঙ্কগুলি ও রাজ্য স্তরে আর্থিক সংস্থাগুলির পুনঃবিনিয়ােগ সংস্থা হিসাবে শুরু করলেও, ইহা বর্তমানে তার ক্রিয়াকলাপ বর্ধিত করে SME (Samll and Medium Enterprise)-কে সরাসরি ঋণ দানের পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইহার প্রধান কার্যালয় হল লক্ষ্ণৌ। মহম্মদ মুস্তফা হলেন SIDBI-এর বর্তমান চেয়ারম্যান এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর।

MSME সেক্টরে উন্নয়ন এবং প্রচারের জন্য “ক্রেডিট +” পথ গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে, ঋণ দান ছাড়াও SIDBI এন্টারপ্রাইজ উন্নয়ন, দক্ষতার মান উন্নয়ন, বাজারের সহায়তা, ক্লাস্টার ডেভেলপমেন্ট, প্রযুক্তির আধুনিকিকরণ প্রভৃতি সমর্থন করে।


• IFCI:

শিল্পের জন্য মধ্যম এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থ সাহায্য দেওয়ার জন্য 1948 সালে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্স কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া অ্যাক্ট অনুসারে সেই বছরই ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্স কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।

এক বিধিবদ্ধ সংস্থা হিসাবে (Statutory Corporation) কোম্পানী অ্যাক্ট 1956 অনুসারে 1993 সালে IFCI-কে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানী হিসাবে নিবন্ধন হয়।

RBI দ্বারা নিবন্ধিত, IFCI হল পদ্ধতিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আমানত ব্যতিত নন-ব্যাঙ্কিং ফাইন্যান্স কোম্পানী।

IFCI-এর প্রাথমিক ব্যবসা হল উৎপাদন, পরিষেবা এবং পরিকাঠামাে খাতে মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সহায়তা প্রদান করা। তার ভর্তুকিযুক্ত ও সহযােগী সংস্থাগুলির মাধ্যমে, IFCI অন্যান্য ব্যবসার ব্যপ্তির মধ্যে বৈচিত্র্যময়। হয়েছে, যার মধ্যে আছে—দালালি, ভেঞ্চার মূলধন, আর্থিক উপদেষ্টা, আমানত সেবা (ডিপােজিটরি সার্ভিসেস), ফ্যাক্টরি স্থাপনের জন্য ঋণ প্রভৃতি।


• EXIM ব্যাঙ্ক ঃ

IDBI-এর আন্তর্জাতিক অর্থ সংস্থার অপারেশন পরিচালনা করার জন্য 1982 সালে EXIM ব্যাঙ্ক (ExportImport Bank) গঠন করা হয়েছিল। এছাড়াও এই ব্যাঙ্ক আমদানীকারী ও রপ্তানীকারীদের আর্থিক সহায়তা প্রধান করে।

EXIM ব্যাঙ্কের প্রাথমিক মূলধন 100 কোটি টাকা, এবং ইহা সম্পূর্ণরূপে কেন্দ্রীয় সরকারের অধিনস্থ।


কর্তব্য সমূহ ঃ

1. প্ল্যান্ট, মেশিনারী এবং সম্পর্কিত সার্ভিসের রপ্তানাকারীদের সরাসরি মাঝারি মেয়াদী ঋণ দান করা।

2. ইহা রপ্তানীকৃত বিলের উপর পুনরায় ছাড় দেয় তা 90 দিনের বেশী নয় এবং এই ছাড় দেওয়া হয় বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলির দ্বারা রপ্তানীকৃত বিলের উপর ছাড় দেওয়ার পর।

3. বিদেশী ক্রেতাদের ঋণ দেওয়া হয়, যাতে বিদেশী আমদানীকারীরা ভারতীয় তৈরী পণ্য ও তার সম্পর্কিত সার্ভিস আমদানী করতে পারে।

4. রপ্তানীভিত্তিক শিল্পের উন্নতি এবং অর্থ সাহায্য করা।

 • NHB (National Housing Bank) :

1987 সালের ন্যাশনাল হাউসিং ব্যাঙ্ক অ্যাক্ট অনুসারে 1988 সালের ৩ জুলাই রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) সম্পূর্ণরূপে মালিকানাধীন সহায়ক ব্যাঙ্ক হিসাবে NHB-কে প্রতিষ্ঠা করা হয়। গৃহস্থের নির্মাণে শীর্ষ অর্থনৈতিক সংস্থা হল NHB। NHB গঠনের উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় এবং আঞ্চলিক লেভেলে গৃহ নির্মাণে ঋণদানকারী আর্থিক সংস্থাগুলিকে পরিচালনা করার প্রধান সংস্থা। এছাড়া সকল সংস্থাগুলিকে আর্থিক এবং অন্যান্য তৎকালীন সাহায্য এবং এদের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়ে সাহায্য করে।

NHB হাউসিং ফিন্যান্স কোম্পানি (HFC)-গুলিকে অনুমােদন, পরিচালনা এবং পরিদর্শন প্রভৃতি করে থাকে। অন-সাইট এবং অফ-সাইট মেকানিজমের মাধ্যমে নজরদারী করা হয় এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রকদের সাথে সহায়তা করা। NHB-এর বর্তমান CEO হলেন শ্রীরাম কল্যাণারামন এবং এর প্রধান কার্যালয় দিল্লীতে অবস্থিত।


• মুদ্রা ব্যাঙ্ক (MUDRA BANK) ঃ

2015 সালের ৪ই এপ্রিল ভারত সরকার MUDRA Bank (Micro Units Development and Refinance Agency Bank)-এর প্রতিষ্ঠা করে। MFI-কে পুনঃঅর্থনৈতিক সংস্থানে, ক্ষুদ্র সংস্থাগুলির উন্নতির জন্য, ভারতবর্ষে উদ্যোগপতিদের উৎসাহদান এবং নন-কর্পোরেট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সেক্টরগুলিতে আর্থিক সাহায্য প্রভৃতি উদ্দেশ্য নিয়ে ইহা গঠন করা হয়েছিল।

এর প্রাথমিক উৎপাদন এবং প্রকল্পগুলি তৈরী করা হয়েছিল এবং এর প্রকল্পগুলি হল ‘শিশু’, ‘কিশাের’ এবং তরুণ’ যা সুবিধাভােগী ক্ষুদ্র সংস্থা বা উদ্যোগপতিদের উন্নতির পর্যায়কে সূচিত করে।

* শিশু ঃ 50 হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ দান।

* কিশাের ঃ 50 হাজার টাকা থেকে 5 লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ দান।

* তরুণ ঃ 5 লক্ষ থেকে 10 লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ দান।


• IPPB (India Post Payment Bank) :

100 শতাংশ ভারত সরকারের আর্থিক সহায়তায় ডাক বিভাগের আওতায় 2017 সালের জানুয়ারী মাসে IPPB একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানী রূপে স্থাপিত হয়। IPPB ডিম্যান্ড ডিপােজিট প্রদান করে, যার মধ্যে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ও সেভিংস অ্যাকাউন্টে। লক্ষ টাকা পর্যন্ত জমা রাখা যাবে। পেমেন্ট ব্যাঙ্কের পুঁজি হল 800 কোটি টাকা এবং ইহার 650টি শাখা সারা দেশে ছড়িয়ে আছে।


• ক্ষুদ্র আর্থিক ব্যাঙ্ক (Small Finance Bank) এবং পেমেন্ট ব্যাঙ্ক ঃ

ক্ষুদ্র আর্থিক ব্যাঙ্কের ইন্টার আলিয়া’ দেওয়ার কিছু নির্দেশিকা আছে।

(i) যােগ্য প্রমােটারদের অবশ্যই আবাসিক ব্যক্তি/পেশাদারী থাকতে হবে এবং ব্যাঙ্কিং এবং ফিন্যান্সের কোম্পানীতে 10 বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

(ii) প্রাথমিকভাবে মৌলিক ব্যাংকিং কার্য যেমন—আমানত গ্রহণ করা, সংরক্ষিত ও অসংরক্ষিত সম্প্রদায়কে ঋণদান করবে। 

(iii) ক্ষুদ্র আর্থিক ব্যাঙ্ক তৈরী করতে ন্যূনতম 100 কোটি টাকার আর্থিক পুঁজি থাকতে হবে।

(iv) RBI-এর সমস্ত নিয়ম এবং আইন সব রকম বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কের (Commercial Bank) জন্য প্রযােজ্য। এছাড়াও বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিকে নগদ সঞ্চয়ের অনুপাত (Cash Reserve Ratio) এবং বিধিবদ্ধ নগদ টাকার অনুপাত (Statutory Liquidity Ratio) বজায় রাখতে হয়। 

পেমেন্ট ব্যাঙ্কের নির্দেশিকা হলঃ

(i) যােগ্য প্রােমােটাররা ব্যাঙ্ক ব্যতিত প্রাক-প্রদেয় পেমেন্ট ইন্সট্রুমেন্ট (PPI) ইস্যু; এবং অন্যান্য সত্তাসমূহ যথা মােবাইল টেলিফোন কোম্পানীগুলি ইত্যাদি।

(ii) প্রাথমিকভাবে পৃথক কাস্টমার প্রতি সর্বাধিক ব্যালান্স একলক্ষ টাকা ডিমান্ড ডিপােজিট যুক্ত গ্রহণ করবে। (iii) ATM/ডেবিট কার্ড, পেমেন্ট এবং অর্থ প্রেরণ পরিষেবা গ্রহণ করা।

(iv) রিজার্ভ ব্যাঙ্কের CRR-এর সাথে বাইরের চাহিদা (Extemal Demand)।


✓ব্যাঙ্ক ব্যবস্থার সংস্কার:

1991 সালে তৎকালীন সরকারের অর্থমন্ত্রী ডঃ মনমােহন

সিং কর্তৃক অর্থনৈতিক উদারীকরণ নীতি গৃহীত হবার পর সরকার ব্যাঙ্ক ব্যবস্থায় সংস্কারের জন্য এম. নরসিংহমের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে।


* NPA (Non-Performing Assets):

এটি একটি ক্রেডিট যার মূলধনের সুদ বা কিস্তি একটি নির্দিষ্ট সময়ের (90 দিনের) পরও দেনা বাকী থেকে যায় এবং যা ধার দানকারীর কোন রকম আয় উৎপন্ন করে না, তাকে। NPA বলে।

* প্রথম নরসিংহম কমিটি (1991) ঃ

ব্যাংকেরদক্ষতা, উৎপাদন লভ্যাংশ বাড়াতে তাদের সংস্কার, স্বশাসন ও কর্মসূচীর সচলতার (flexibility) ওপর গুরুত্ব আরােপ করে। এই কমিটি নিম্নলিখিত সুপারিশ করে— (i) মুখ্য ক্ষেত্রগুলির পুনর্মূল্যায়ন।

(ii) সুদের হার, অর্থ সঞ্চয়ের অনুপাত (Cash Reserve Ratio) এবং স্ট্যাটিউটারি লিকুইডিটি রেসিও (SLR) কমানাে।

(iii) সুদের হার নির্ধারণে ব্যাঙ্কের স্বাধীনতা। 

(iv) ঋণগ্রহীতা কর্তৃক দেওয়া হয়নি এমন ঋণের পুনর্মূল্যায়ন (non-performing assets) 

(v) অপ্রদত্ত ঋণ আদায়ে বিশেষ বিচারালয় স্থাপন।

(vi) ব্যাঙ্ক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা।


* দ্বিতীয় নরসিংহম কমিটি (1998) ঃ

এই কমিটির সুপারিশগুলি নিম্নলিখিত

 (i) ব্যাঙ্কের স্বায়ত্তশাসন।

(ii) RBI-এর ভূমিকায় সংস্কার সাধন।

(iii) বিদেশী ব্যাঙ্কের প্রবেশ।

(iv) মূলধনের যথেষ্ট যােগান।

(v) ব্যাঙ্ক আইনের নিয়মিত মুল্যায়ন ও সংশােধন।

 * কমিটির সুপারিশ নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে রূপায়ন করা হয়-

(i) ব্যাঙ্ক জনগণ কর্তৃক সঞ্চিত অর্থের ওপর প্রদত্ত স্ট্যাটিউটারি লিকুইডিটি রেট (SLR)-এর হার কমানাে হয়।

(ii) ব্যাঙ্ক কর্তৃক প্রদত্ত ক্যাশ রিজার্ভ রেসিও (CRR) ও 15% থেকে কমিয়ে 14% করা হয়।

(iii) সরকার ব্যাঙ্কের অনাদায়ী ঋণগুলাে আদায়ের জন্য বিশেষ আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়।

(iv) ব্যাঙ্কের শাখা স্থাপনের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়। ও ক্ষতিতে চলা শাখাগুলি বন্ধের স্বাধীনতা দান করা হয়।



No comments:

Post a Comment







Twt
D1 Study Subscribe our Youtube Channel
Subscrib